জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি ছবি : বাসস
২০২৫ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ক্যাডারদের হামলা ও গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—এই সময় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ২৩ হাজার জন আহত হয়েছিলেন।
এ পর্যন্ত (৫ আগস্ট ২০২৫) রাজধানীর ৫০টি থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৭০৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতা–কর্মীকে।
গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ হাসিনার সাবেক বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, দীপু মনি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক এমপি মমতাজ বেগম, এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, আব্দুস সোবহান গোলাপ, আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশাসহ মোট ৫ হাজার ৭৯ জন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তা।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি মো. শহিদুল হক, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনসহ মোট ২৩ জন পুলিশ সদস্য। গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, সাবেক ডিসি তানভির সালেহীন ইমন, সিলেটের সাবেক পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান, সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ডিবি লালবাগ জোনের সাবেক ডিসি মশিউর রহমান, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ হিল কাফি, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. তানজিল আহমেদ, এডিসি (বর্তমানে এসপি) মো. শাহেন শাহ, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা, সাবেক গুলশান থানার ওসি (বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আপেল উদ্দিন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা গুলশান) মো. ইফতেখার মাহমুদ, সাবেক যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. আবুল হাসান, পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাজহারুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. সাজ্জাদ–উজ–জামান, নায়েক সজিব সরকার, কনস্টেবল সুজন হোসেন, শোয়াইবুর রহমান ও মো. বায়োজিদ বোস্তামী।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলায় মন্ত্রী, এমপি, আমলাসহ মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫ হাজার ৭৯ জন, যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক দুই আইজিপিসহ ২৩ জন পুলিশ সদস্য। মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন।
